COVID-19 and Stroke : কভিড-১৯ এবং স্ট্রোক

 

COVID-19 and Stroke

COVID-19 and Stroke : কভিড ১৯ এবং স্ট্রোক

নভেল করোনা ভাইরাস বা সার্স করোনা ভাইরাস ২ এমন একটি মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস – যাকিনা পূর্বে কখনো মানব দেহে ছড়ায়নি। ইতিমধ্যে এই করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো পৃথিবীতে অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত কয়েক কোটি মানুষ। স্থবির হয়ে আছে জন জীবন ও অর্থনীতি।

ভাল থাকুন ডট কম - www.valothakun.com এর আজকের আলোচনা Covid -19 and Stroke : কভিড-১৯ এবং স্ট্রোক নিয়ে

মানব দেহে কভিড ১৯ রোগের নতুন নতুন প্রকাশিত লক্ষণ নিয়ে পুরো বিশ্ব আজ চিন্তিত। এর মাঝে সম্প্রতি দেখা গিয়েছে কভিড ১৯ ফুসফুসকে যতটা আক্রান্ত করে, তারচেয়ে আরো ভয়াবহ ভাবে আক্রন্ত করতে পারে আমাদের মস্তিস্ককে এবং এর ফলে হতে পারে একিউট স্ট্রোক । আমাদের দেশে সহজে যাকে ব্রেইন স্ট্রোক বলে মানুষ চিনে।  চিকিৎসকরা এই COVID-19 and Stroke : কভিড ১৯ এবং স্ট্রোক নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। কারণ রোগী কভিড ১৯ হতে মুক্তি পেলেও হয়ত স্ট্রোকের কারণে স্থায়ী ভাবে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। 

 

  • যদিও সাধারণত ফুসফুসের সংক্রমণ হিসাবে বিবেচিত তবু COVID-19 এ আক্রান্ত রোগীর রক্তের জমাট বেঁধে (Blood Clot) যেকোন সময় স্ট্রোক হতে পারে।
  • বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেকোন বয়সে, যে কোনও কভিড ১৯ রোগীর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি রোগীর যদি খুব কম বা কোনও লক্ষণ নাও থাকে তবু স্ট্রোক হতে পারে। [রেফারেন্স-১]

 

COVID-19 রোগটি SARS-CoV-2 দ্বারা সৃষ্ট এবং এটি সাধারণত ফুসফুসে আক্রমণ করে। তাই এর প্রধান লক্ষণগুলো হল কাশি, শ্বাস নিতে অসুবিধা, প্রচন্ড জ্বর, গলা ব্যাথা। তবে এখন বমি, ডায়ারিয়া, গা ব্যাথা, স্ট্রোকের লক্ষণ (যেমন একপাশ অবস হওয়া, ইত্যাদি) অনেক রোগীর মাঝে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের Villanova University এর ডাইরেক্টর Dr. Theresa Capriotti এক স্বাক্ষাৎকারে বলেছেন- “করোনা ভাইরাস মানব দেহে আক্রান্তের পর রক্তনালীতে মাইক্রোথ্রোম্বি [ছোট ক্লটস] তৈরী করতে দেখা গিয়েছে। এই ক্লটগুলি ফুসফুসের রক্তনালীতে গিয়ে ফুসফুসে রক্ত ​​প্রবাহকে বাধা দিতে পারে, যাকে পালমোনারি এম্বোলিজম বলা হয়, বা মস্তিষ্কের গিয়ে ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।“

Dr. Theresa Capriotti আরো বলেছেন "গুরুতর COVID লক্ষণগুলির দ্বারা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটছে। এটি যে কোনও বয়সের মধ্যে হতে পারে এবং এটি সাধারনত হঠাৎ করে ঘটে।"

 

COVID-19 and Stroke : কভিড ১৯ এবং স্ট্রোক –এ যেসমস্ত লক্ষণ দেখা যায়-

কভিড ১৯ –এর স্বাধারণ লক্ষণেগুলোর পাশাপাশি স্ট্রোকের জন্য নিচের লক্ষণগুলো হঠাৎ করে প্রকাশ পেতে পারে-

  • দুর্বলতা বা শরীরের একপাশে প্যারালাইসিস
  • শরীরের একপাশে সংবেদ বা অনুভুতির হ্রাস।
  • মুখ একপাশে বাঁকা হয়ে যাওয়া।
  • কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, ইত্যাদি।

 Covid -19 and Stroke : কভিড-১৯ এবং স্ট্রোক নিয়ে www.valothakun.com - ভাল থাকুন ডট কম -  এর আজকের আলোচনা 

বিশ্বকে পথম COVID-19 and Stroke : কভিড ১৯ এবং স্ট্রোক বিষয়ে সতর্ক করেন নিউইয়র্কের চিকিৎসকরা -

মার্চ ২০২০-এ নিউইয়র্কের The Mount Sinai Hospital-এর Dr. Johanna T. Fifi এবং তার টিমের চিকিৎসকরা সর্বপ্রথম COVID-19 and Stroke : কভিড ১৯ এবং স্ট্রোক –এর মাঝে সম্পর্ক খুজে পান এবং বিশ্বের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আসেন। তারা দেখেন যে COVID-19 রোগীদের অস্বাভাবিক হারে স্ট্রোকও হচ্ছিল।

"আমরা অনুমান করছি যে ভাইরাসটি সারা শরীরের রক্তনালীর আস্তরণের উপর প্রভাব ফেলেছে - এবং এটিই ক্লটগুলির দিকে পরিচালিত করে," তিনি বলেছিলেন।

এ বিষয়ে তাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদন নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে (এনইজেএম) প্রকাশিত হয়েছিল (নিচে এর লিংক দেয়া হল) -

Large-Vessel Stroke as a Presenting Feature of Covid-19 in the Young [রেফারেন্স-২]

 

Dr. Johanna T. Fifi এবং তার টিম প্রমাণ করেছে যে কভিড ১৯ এর সাথে স্ট্রোকের সম্পর্ক আছে এবং যেকোন বয়সের কভিড আক্রন্তদের এটি হতে পারে। তিনি আরো বলেছেন, তাদের এই গবেষণায় উঠে আসে যে, এসব রোগীদের অনেকেরই তেমন গুরুতর কোনো লক্ষণ ছিলনা এবং হঠাৎ করেই তাদের স্ট্রোক হয়।

নিউইয়র্কের The Mount Sinai Hospital -এর নিউরোসার্জির অধ্যাপক Dr. Christopher P. Kellner মতে, যে ধরণের স্ট্রোক ঘটছে তা হ'ল মারাত্মক স্ট্রোক। তিনি দেখেন যে কভিড ১৯ রোগীদের মস্তিষ্কের বৃহত ধমনীতে বড় মাপের রক্ত ​​জমাট বাঁধার ফলে মস্তিস্কের বিশাল অংশ জুড়ে ইসকেমিক স্ট্রোক হয়।

Dr. Christopher P. Kellner আরো বলেন যে, এ কারণেই এপ্রিল মাসে The Mount Sinai Hospital COVID-19-তে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (রক্ত জমাট বাধা রোধকারী) ওষুধ দেয়া শুরু করেছিলেন এবং এতে ভাল ফল পেয়েছেন।

যাইহোক, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন এই ধরনের ঔষধ হালকা লক্ষণে এবং বাড়িতে চিকিৎসা গ্রহণের সময় কখনই দেয়া যাবেনা। এদের মারাত্মক পার্শ্বর্প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

আমেরিকান হার্ট অ্যান্ড আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনগুলির একটি জার্নাল স্ট্রোকের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, COVID-19 এর বিরুদ্ধে সতর্কতা স্ট্রোককে বিলম্বিত করতে পারে। [রেফারেন্স-৩]

 ভাল থাকুন ডট কম - www.valothakun.com আজ বিস্তারিত ভাবে লিখেছে  Covid -19 and Stroke : কভিড-১৯ এবং স্ট্রোক সম্পর্কে

COVID-19 and Stroke : কভিড ১৯ এবং স্ট্রোক - কিভাবে হয়?

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় কোভিড -১৯ ফলে সারা শরীরে মারাত্মক ইনফ্লামেশন সৃষ্টি হয় এবং রক্ত নালীতে ফ্যাটি প্ল্যাক তৈরী করে যা এক সময় রক্ত নালীকে রাপচার (ছিড়ে ফেলা) করতে পারে। এছাড়া এই প্ল্যাক এ রক্ত জমাট বেধে কভিড ১৯ এর রোগীদের স্ট্রোকের পাশাপাশি অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার রোগের (যেমন হৃদ রোগ) ঝুকিও বৃদ্ধি করে।

গবেষণায় আরো দেখা যায়, কভিড -১৯ এর রোগীরাদের ভেনাস থ্রম্বোএম্বলিজমের (VTE) ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এর ফলে যেকোন সময় ফুসফুসে পালমনারি এম্বোলিজম হয়ে রোগী মারা যেতে পারেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এর মতে, ভেনাস থ্রম্বোএম্বলিজমের (VTE) এর ক্ষেত্রে রক্ত ​​জমাট বাঁধা ধমণীতে শুরু না হয়ে শুরু হয় শিরাতে। VTE হল স্ট্রোক ও হার্ট এটাক এর পর ৩য় সর্বোচ্চ রক্তনালীর রোগ। [রেফারেন্স-৪] 

 

পরিশেষ:

যদিও সাধারণত ফুসফুসের সংক্রমণ হিসাবে বিবেচিত তবু কোভিড -১৯ আক্রান্তদের রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মারাত্মক স্ট্রোক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বয়স নির্বিশেষে যে কোনও রোগীর ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও যাদের তেমন কোন লক্ষণ নেই।

এ কারণে, এপ্রিল ২০২০ হতে নিউইয়র্কের The Mount Sinai Hospital COVID-19-তে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট (বা, রক্ত জমাট বাধা রোধকারী) ঔষধ দেয়া শুরু করা হয়।

কভিড ১৯ একটি বৈশ্বিক মহামারী। এর চিকিৎসা এখনো সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। তবে এ রোগের কারণে স্ট্রোক হলে তার ফল আরো মারাত্মক হয়। বর্তমানে তাই বাঙলাদেশের করোনা মোকাবেলার জন্য তৈরী কভিড-১৯ ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইনেও স্ট্রোক প্রতিহতের জন্য অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট (বা, রক্ত জমাট বাধা রোধকারী) ঔষধ ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

নভেল করোনা ভাইরাসের টিকার পরীক্ষা চলছে যুক্তরাষ্ট্র , চীন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এই টিকার সফলতা আসতে আসতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। যেহেতু কভিড ১৯ এর এখনো ভাল কোন চিকিৎসা নেই তাই রোগটি প্রতিরোধে আমাদের সচেষ্ট হওয়াটাই একমাত্র সমাধান। না হলে হয়ত ১৯ শতকের স্প্যানিশ ফ্লুতে মৃত্যুর সংখাকে ছাড়িয়ে যাবে এই কভিড ১৯।

আপনারা পড়ছেন ভাল থাকুন ডট কম - www.valothakun.com -এর  Covid -19 and Stroke : কভিড-১৯ এবং স্ট্রোক লিখাটি

কভিড ১৯ মোকাবেলায় আমাদের করনীয়-

  • মানুষজনের চলাচল সীমিত করে দেয়া। বা সোসাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলা। ঘর থেকে পারত পক্ষে না বের হওয়া। আর যদি বের হতেই হয় তবে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা এবং আশেপাশের লোকদের থেকে প্রায় ২ মিটার দূরত্বে থাকা।
  • বার বার হাত সাবান দিয়ে ধুতে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ব্যবহার করতে সবাইকে উৎসাহিত করা এবং নিজে ধোয়া।
  • গত ১৪ দিনের মাঝে কভিড আক্রান্ত এলাকা থেকে আসলে বা গেলে অথবা কভিড আক্রান্তের পাশে অবস্থানের ইতিহাস থাকলে নিজ দ্বায়িত্বে ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা।
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা নিশ্চিৎ করা। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে কাজ করছে কারণ সীমিত সংখক ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। এদের আক্রান্তের হার না রোধ করতে পারলে অচীরেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে।
  • সঠিক ভাবে লকডাউন পালন নিশ্চিত করা।
  • বেশি বেশি টেস্ট করা এবং রোগটি ছড়ানোর আগেই রোগীকে সনাক্ত করে আইসোলেশন করে ফেলা।

 -----------------------------------

আরো পড়ুন- 

প্রতিদিন কতটা সময় ঘুমানো উচিত - How many hours you need to sleep


ডা. হাসান ইবনে আমিন

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ